ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়। করোনার প্রকোপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন তিনি। বিধিনিষেধের মধ্যে সময়টুকু কাজে লাগাতে কাজ শিখেন টেকনিশিয়ানের। পরে কাজ করে টাকা জমিয়ে অনলাইনে পেজ খোলে শুরু করেন হোম ডেলিভারীতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে পরিবারকেও সহযোগিতা করছেন তিনি।
অপূর্বের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের চকপাড়া মহল্লায়। বাবা মৃত নিখিল রায়। মা বিভা রানী গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে অপূর্ব সবার ছোট।
২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করে গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে ভর্তি হন অপূর্ব। ছাত্রজীবনেই ব্যবসায় নামবেন এমনটা ভাবেননি। কিভাবে এলেন সেই গল্পট শোনা গেল তার মুখ থেকেই।
অপূর্ব রায় বলেন চলতি বছর করোনায় কলেজ বন্ধ হলে স্থানীয় এক টেকনিশিয়ান বড় ভাইয়ের সাথে থেকে বৈদ্যুত্যিক ওয়্যারিং ও গ্যাসের চুলা সার্ভিসিংয়ের কাজ শিখি। পাঁচ মাস আগে উপার্জনক্ষম বাবা মারা গেলে সংসারে অভাব দেখা দেয়। তখন নিজের পড়াশোনার খরচ যোগাতেই প্রথমে টেকনিশিয়ান ও পরে অনলাইনে সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করি।
দিনের বেলা বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও গ্যাসের চুলা সার্ভিসিং করেন অপূর্ব। রাতে মনোযোগ দেন পড়াশোনায়। এছাড়াও অনলাইনে এ এস গ্রæপ নামে পেজ খোলে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেন। পেজের হটলাইন নম্বর ০১৭৭৬০৪৪৯৫১। এখানে সিলিন্ডার অর্ডার করলে চার্জ ছাড়াই বাড়িতে ডেলিভারী দেয়া হয়। আর নিজের সাইকেল ব্যবহার করে ডেলিভারী ম্যানের কাজটা করেন অপূর্ব নিজেই।
প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ টি সিলিন্ডার বিক্রি করেন অপূর্ব। এছাড়াও বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও গ্যাসের চুলা সার্ভিসিং করে ভাল আয় তার। মাস শেষে আয়ের একটা অংশ নিজের কাজে রেখে বাকিটা সংসারের খরচের জন্য মায়ের হাতে তুলে দেন অপূর্ব।
অপূর্ব রায় বলেন টেকনিশিয়ানের কাজ ও সিলিন্ডার বিক্রির শুরুর দিকে অনেকে কটূক্তি করতো। খারাপ লাগলেও মানিয়ে নিতাম। সবচেয়ে বড় কথা নিজের আয়ে নিজে চলার পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করছি। এখন একটাই লক্ষ পড়াশোনা শেষ করে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটা ভালো চাকরি করা।