
(হৃদয় রায় সজীব)
নেত্রকোণার সদর উপজেলার বিলচুলঙ্গা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালত একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় আব্দুস সোবাহান নামের এক গৃহকর্তাকে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ জুলাই রাতে মোবাইল ফোনে কথা বলার পর আব্দুস সোবাহান ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তার স্ত্রী মোছাঃ শিউলী আক্তার জানান, রাত ১০টা ৫৮ ও ৫৯ মিনিটে দুটি কল আসে, এবং এরপর তার স্বামী জানান চাচাতো ভাই রাসেল জরুরি কথা বলার জন্য তাকে ডাকছেন।
পরদিন সকালে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা প্রতিবেশী হাজী মোঃ চাঁন মিয়ার পতিত জমিতে নতুনভাবে মাটি ভরাট হতে দেখে সন্দেহ পোষণ করে। পরে খোঁড়াখুঁড়ির মাধ্যমে সোবাহানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে, আসামি এমদাদ হোসেন ও আবুল হাসেম ওরফে মোঃ আবুনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোবাহানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ মাটিচাপা দেন।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এমদাদ হোসেনকে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, এছাড়া ২০১ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর আসামি আবুল হাসেমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের পরিবারের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি প্রকাশ পায় এবং তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।