সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
নেত্রকোনার দূর্গাপুরে ৮০ বোতল ভারতীয় মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের তিন মাসের প্রণোদনা প্রয়োজনে আরো বাড়ানো হবে——– খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নেত্রকোনায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিতঃ কৃষকের হাহাকার মদনে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে খাদ্য যুগ্ম সচিব গৌরীপুরে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত নেত্রকোনার দূর্গাপুরে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় মাদকাসক্তের ছুরিকাঘাতে একজন নিহতঃ তিন জন আটক নেত্রকোনার পূর্বধলায় ৬০০ কেজি ভারতীয় জিরাসহ এক চোরাকারবারি আটক মদনে পানিতে ডুবল ৪ হাজার হেক্টর বোরো ধান, বিপাকে নয় হাজার কৃষক নেত্রকোনার পূর্বধলায় বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ  নিহত ২ আহত ৩  বন্যার ক্ষয়ক্ষতি দেখতে হাওরে এমপি’র প্রতিনিধি দল, সহায়তার আশ্বাস

নেত্রকোনায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিতঃ কৃষকের হাহাকার

সিনিয়র রিপোর্টার এ কে এম আব্দুল্লাহ
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে
গত এক সপ্তাহে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ জাজার ৫ শত ৪৭ হেক্টর। শেষ পর্যন্ত জেলার
কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরো বেশ কিছু জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে। হাওরের ধান পাকতে শুরু করায় কৃষকরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।  যখন হাওরে অল্প অল্প ধান কাটা শুরু হয় তখনি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। এরপর গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে বেশীর ভাগ হাওর ও বিলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে ফসলী জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওর ও বিলে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এই পরিমান জমির ধান নষ্ট হবার আশংকা রয়েছে।  হাওর সহ সারা জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমান হচ্ছে ১৮ হাজার ৪ শত ৭৮ হেক্টর।   এ কারণে কৃষকের রঙ্গিন স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। চোখের সামনে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারদিকে কৃষকের হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে।
নেত্রকোনায় গত তিন দিন যাবত কোন
বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছু কিছু বিল ও হাওর এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। আর বৃষ্টি বা ভারী বর্ষণ না হলে নিমজ্জিত ধান কিছুটা উদ্ধার করা যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে।
     হাওর পাড়ের শত শত কৃষক পরিবারের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।  যতটুকু  ধান পাওয়া গেছে, সেই ধানের দামও পাচ্ছে না কৃষক। এখন প্রতিমন ধান বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ৬ শত টাকা থেকে ৭ শত টাকা দরে। পানিতে নিমজ্জিত ধান হাঁসের খাবারে পরিণত হচ্ছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, রবিবার বিকাল পর্যন্ত উব্দাখালী, কংশ  ও ধনু নদীর পানি বিপদসীমা উপর ১ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: আমিরুল ইসলাম জানান, যদি আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তা হলে হাওরের বাকি ধান এক সপ্তাহের মধ্যেই কাটা শেষ হবে।  কারণ হিসাবে বলেন, জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেষ্টার মেশিন ধান কাটতে পারছে না। ধান কাটা শ্রমিকরাই কাঁচি দিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই কৃষকরা ভিজা ধান শুকানোর জন্য ছুটছেন।
এদিকে  হাওর এলাকার মেন্দিপুর গ্রামের
কৃষক আরিফ তালুকদার জানান, পানির নিচে পাকা ও আধাপাকা ধান আছে তা কাটানোর জন্য শ্রমিকদের প্রতি কাটায় ১৮শত টাকা দিয়ে হয় এছাড়াও ধান কাটার পড়ে তা নৌকা দিয়ে বাড়ি আনার জন্য আরো ১ হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে করে প্রতি ১ কাটা জমির ধান কারতে ২ হাজার ৮শত টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ঋণ করে ধান চাষ করা কৃষকের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন এত টাকা খরচ করে ধান কাটার টাকা তাদের হাতে নেই ।
বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নেত্রকোনার কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা ।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 khobornetrokona
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin