
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে শরীফ মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার বাড়িতে দিন-রাত চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
রাতদিন মাদক কারবারিদের আনাগোনা, ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীফ মিয়া জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর থেকেই আগের চেয়েও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রতিশোধের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন শরীফ মিয়া। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্ত হন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার আঠারোবাড়ী এলাকায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা।
মাদক ব্যবসায়ী শরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে ইশ্বরগঞ্জ থা থানায় ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের এস আই যুবরাজ দাসের দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে,অবৈধ মাদকসহ গ্রেফতারকৃত আসামি ১। মোঃ শরীফ মিয়া , পিতা-মোঃ কাঞ্চন মিয়া, মাতা-মোছাঃ হেলেনা আক্তার, সাং-কান্দিপাড়া, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোণা এর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা এসআই (নিঃ) যুবরাজ দাস, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহ। দায়ের কৃত এজাহারে লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয় পরে জিডি নং-৪৭৩, তারিখ-৩০/০৪/২০২৫ খ্রিঃ মূলে আমি সংগীয় এএসআই (নিঃ) মিলন ২/১৯৫৬ মোঃ সাইফুল আমিন, কং ১৫৫৮ সোহেল মিয়া, কং/৮৯৫ নজরুল ইসলাম সর্বকর্মস্থল-জেলা গোয়েন্দা ‘শার্থী, ময়মনসিংহ সহ ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকায়, গাড়ীযোগে অভিযান পরিচালনাকালে ৩০/০৪/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ ২০.০০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন সোহাগী বাজারে অবস্থানকালে গোপন সূত্রে সংবাদ পায় যে, ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন আঠারোবাড়ী রায়ের বাজারস্থ অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি আঠারোবাড়ী শাখার সামনে পাঁকা রাস্তার উপর মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করার জন্য অবস্থান করিতেছে। প্রাপ্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিয়া এস আই যুবরাজ সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ রওনা হইয়া অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি আঠারোবাড়ী শাখার সামনে পাঁকা রাস্তার উপর উপস্থিত হইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী পালানোর চেষ্টাকালে সংগীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় উপরোক্ত আসামিকে হাতেনাতে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয় । ধৃত আসামির নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদে উপরোল্লেখিত নাম-ঠিক প্রকাশ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী ১। মোঃ হযরত আলী (২১), পিতা-মোঃ আলী, মাতা-মোছাঃ রাহাত আনোয়ারা বেগম, সাং-সইলাটি, খানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ, মোবাঃ ০১৭৬২-৭৪২৭১৪, ২। মোঃ হালিম হাওলাদার (৩৪), পিতা-মৃত কাশেম আলী হাওলাদার, মাতা-মৃত হাজেরা বেগম, সাং-লবন চোরা, খানা-খুলনা ১১১১৪২২২৯, মোবাঃ ০১৭১২-৯৪৯২২৭, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ময়মনসিংহগণদের উপস্থিতিতে ধৃত আসামী ১৭ময়া (৫৪) এর দেহ বিধি মোতাবেক তল্লাশীকালে তাহার পরিহিত লুঙ্গীর ডান কোচর হইতে নিজ হাতে করিয়া দেওয়া মতে ০১(এক) টি নীল রংয়ের প্লাষ্টিকের জিপারের মধ্যে রক্ষিত ৩০০ (তিনশত) পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট, যাহার ওজন ৩০(ত্রিশ) গ্রাম, যাহার অবৈধ বাজার মূল্য অনুমান (৩০০X৫০০)=১,৫০,০০০/-(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা উদ্ধার পূর্বক পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক ও টর্চলাইটের আলোতে কাছে থাকা ডিজিটাল সাজিয়ে পরিমাণ ও গননা করিয়া জব্দ তালিকা মূলে ইং ৩০/০৪/২০২৫ তারিখ ২১.০০ ঘটিকার সময় জব্দ করি সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করিয়া এস আই যুবরাজ নিজেও স্বাক্ষর করেন । গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত কথিত ইয়াবা টাবলেট সংঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় নিজ হেফাজতে গ্রহন করেন । গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখিয়া ঘটনাস্থলে অবস্থান করিরেছিল। গ্রেফতারকৃত আসামি অবৈধভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে ইয়াবা ট্যাবলেট রাখিয়া। ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) সারণীর ১০(ক) ধারার অপরাধ করিয়াছে। গ্রেফতারকৃত আসামি ও জাগরুর আলামত ডিবি মোফাজেও আছে। আরো মাদক উদ্ধারের চেষ্টা করিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব ১২৩০/০৪/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ ২০.৩০ ঘটিকার সময় ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন আঠারোবাড়ী রায়ের : নিলাম আজকে Gorlলে খুলনা, বর্তমান সাং-শম্ভুগঞ্জ সবজীপাড়া (জনৈক কাশেম মিয়ার বাড়ীর ভাড়াটিয়া), খানা- একটি কতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহ, মোবাঃ ০১৯৪০-০৫৯৫৩৮, ৩। এএসআই(নিঃ) মোঃ মিলন হোসেন, বিপি- Lয় মিয়া (৩৫) এর নিওয়ে সংশ্লিষ্ট মাথায় নিয়মিত মামলা জবু বিপি-৮০১৯২২৬০৯২ এসমাই(দিন) জেলা গোয়েন্দা শাখা ময়মনসিং। মোবা৪-০১৭২৬-১০১০১৬
।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শরীফ জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু করেছে। প্রতিদিনই তার বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত দেখা যায়। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না।”
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে শরীফ মিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকায় মাদকের বিস্তার আরও বাড়তে পারে।
তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এ ধরনের চিহ্নিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”