আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে নেত্রকোনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৬ মে) র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরেকে গ্রেপ্তার করে। বিকালে তাকে নেত্রকোনা মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাগর নেত্রকোনা মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিগত ২০২২ সালে ‘হযরত ফাতেমা তুজ্ জোহুরা মহিলা মাদ্রাসা’ নামক একটি
কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার প্রয়োজনে তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সে কারণে শিশুটি নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর জোর পূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। এদিকে শিশুটির শারিরীক পরিবর্তন দেখা দেয়ায় স্থানীয় ভাবে ডাক্তার দেখানো ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর বিষয়টি জানাজানি হয় পড়লে সুচতুর অভিয়ুক্ত শিক্ষক সাগর চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ৩০ এপ্রিল মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।