
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সুতারগোপ্তা এলাকায় তালা লাগিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাত বছর বয়সী শিশু কন্যা আয়েশা আক্তার নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন, তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম ও দুই কন্যা সন্তান স্মৃতি আক্তার (১৪) ও বীথি আক্তার (১৮) গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার রাতে (২১ ডিসেম্বর) বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের নির্দেশনায় একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে লক্ষ্মীপুরে যান। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রতিনিধি দলটি প্রথমে নিহত শিশু আয়েশা আক্তারের কবর জিয়ারত করেন। পরে অগ্নিদগ্ধ বেলাল হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়।
এর আগে একই দিন বিকেলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বেলাল হোসেনের দুই কন্যা স্মৃতি আক্তার ও বীথি আক্তারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বেলাল হোসেনের বসতঘরে তালা লাগিয়ে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার সময় বেলাল হোসেন তাঁর স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ ঘরের ভেতরে ছিলেন। আগুন লাগার পর তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও সাত বছর বয়সী আয়েশা আক্তারকে উদ্ধার করতে পারেননি। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এ নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।