
নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ তালিকা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে অতিরিক্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে তালিকাটি নতুন করে যাচাই-বাছাই করে প্রণয়ন করা হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকা যাচাই-বাছাইকালে যদি আমার দলের কোনো লোক চাপ দেয়, তাদের কথা শুনতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা সঠিকভাবেই তালিকা প্রস্তুত করবেন। যারা পাওয়ার ন্যায্যতা রাখেন তারাই পাবেন, আর যারা পাওয়ার ন্যায্যতা রাখেন না তারা পাবেন না। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও তিনি উচিতপুর, ফেকনী রোড, রত্নপুর গুচ্ছগ্রাম ও পাথুনিয়া হাওর পরিদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, নতুন তালিকায় বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যারা বাস্তবিক অর্থে ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং সহায়তা পাওয়ার যৌক্তিকতা রাখেন, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিএনপি ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা করা হয়েছিল। তবে সেই তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি অনেক অকৃষকের নামও এসেছে। আবার অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ পড়েছে। এজন্য নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এ সময় তিনি জেলেদের উদ্দেশ্যে বলেন, জেলেদের জন্য আলাদাভাবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে এ ব্যাপারে তিনি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিকল্পভাবে জেলেদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
হাওরে মাছ ধরার বিষয়ে তিনি বলেন, “হাওরে যে কোনো অবৈধ জাল পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুড়িয়ে ফেলা হবে। এবার হাওরে সরকারের পক্ষ থেকে মাছ ছাড়া হবে। আমিও নিজ অর্থায়নে হাওরে মাছ ছাড়ব। তাই হাওরে জাল ফেলে মাছ ধরতে নিষেধ করা হচ্ছে।”
হাওড়াঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের অচিরেই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করতে হবে। আমরা বিচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন চাই না। হাওড়ের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করতে হবে।”
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান চন্দন,মদন থানা অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, কাইটাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের আজাদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহমদ সেকুল, গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন, উপজেলা যুবদল সভাপতি গোলাম রাসেল রুবেল, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ছাত্রদল সভাপতি এস এইচ পিপুল ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।