
নেত্রকোনার মদনে পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলামের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা ১০ ভরি স্বর্ণা অলাংকার লুট করে নিয়ে গেছে । যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। পাশের কয়েকটি বাড়িতেও তালা ঝুলিয়ে দেয় সংঘবদ্ধ ডাকাত সদস্যরা। রোববার রাত আনুমানিক ১টার দিকে পৌর সদরের ৩নং ওয়ার্ডে এমন ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আজহারুল ইসলামের ছোট ভাই জাকু মিয়াকে প্রথম চেতনা নাশক ওষধ সেবন করায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। জাকু অসুস্থ¯’ বলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে ডাকাডাকি করে প্রথমে বসত ঘরে প্রবেশ করে। জাকু আবল তাবল বলতে শুরু করলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের বিষয়টি সন্দেহ হয়। নাসরিন কথা বলতে চাইলে ডাকাতরা তাকে ও তার স্বামীকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে বসত ঘরে থাকা আলমারির চাবি ভেঙে প্রায় ১০ ভরিস্বর্ণালষ্কার নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য হবে ২৪ লক্ষ টাকা। এ দিকে জাকু মিয়াকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাকুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে কয়েকজন লোক আমার স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এসে দরজা খুলতে বলে। পরে আমার স্বামীকে দেখে আমি দরজা খুলে দেই। এ সময় তারাও ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমেই আমার বিষয়টি সন্দেহ হয়। আমি কথা বলতে চাইলে তারা আমার দু’হাত বাঁধে। আলমারির তালা ভেঙে আমাদের ১০ ভরি স্বর্ণালষ্কার নিয়ে যায়। পরে আমার স্বামীকে ও আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। তাদের হাতে অস্ত্রও ছিল। এ সময় কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে, তিনি দুই থেকে তিনজনকে চিনতে পেরেছেন বলে জানান।
জাকু জানায়, গতকাল রাত নয়টার পর আমার এক বন্ধু আমাকে চা পান করান। পরে আমাকে গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। এর পর আমি আর কিছুই বলতে পারি না। রাত ১টার দিকে আমার চেতনা আসলে তারা আমাকে বাসায় নিয়ে আসে। আমার স্ত্রী আমাকে দেখে বাসার গেট খুলে দেয়। তারাও আমার সাথে বাসায় প্রবেশ করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা আমার স্ত্রীর হাত বেঁধে পেলে। এর পর কি হয়েছে আমি জানি না।
মদন থানা ওসি হাসনাত জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।